এপ্রিল ২৭, ২০২৬ ৩:৪২ অপরাহ্ণ

কাস্টমসে ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধে এনবিআর চেয়ারম্যানের প্রতি ব্যবসায়ীদের আহ্বান

কাস্টমসে ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধে এনবিআর চেয়ারম্যানের প্রতি ব্যবসায়ীদের আহ্বান

চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসে পণ্য খালাসে ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। তারা বলেন, দুর্নীতি বন্ধ করা গেলে রাজস্ব আদায়ে কোনো আপত্তি থাকবে না।

রোববার রাজধানীর রাজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিলেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম শাহদাত হোসেন বলেন, পণ্য খালাসে ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ভ্যাট অডিট, বন্ড অডিট ও ট্যাক্স অডিটের নামে অতিরিক্ত চাপ কমানোর দাবি জানান তিনি।

আলোচনায় বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমইএ, গার্মেন্টস বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি ছাড়াও বিডা, বেপজা ও বেজার কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। উপস্থিত ছিলেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

গার্মেন্টস বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশন রপ্তানির স্যাম্পল পণ্যের ওপর থেকে ভ্যাট ও কর প্রত্যাহারের দাবি জানায়। তারা অভিযোগ করেন, বিজিএমইএ সদস্যরা বন্ড সুবিধা পেলেও বায়িং হাউসগুলো তা পাচ্ছে না।

জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ব্যবসা সহজ করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তবে অতীতে দেওয়া নানা সুবিধার অপব্যবহার হয়েছে। তাই নতুন সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। বন্ড ব্যবস্থার অপব্যবহার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে দেশের অনেক শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি ব্যবসায় সহজীকরণে আইন ও বিধিমালা সংশোধনের আশ্বাস দিয়ে বলেন, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও রাজস্ব ফাঁকির সব পথ বন্ধের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, পোশাকশিল্পে সাব-কন্ট্রাক্টিংয়ের ক্ষেত্রে ভ্যাট ও অগ্রিম কর আরোপের কারণে একই পণ্যে দ্বৈত কর দিতে হচ্ছে। তিনি এ কর প্রত্যাহারের পাশাপাশি উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৬৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন।

রপ্তানিকারক সংগঠনের নেতারা প্রণোদনার ওপর ১০ শতাংশ কর আরোপের সমালোচনা করে বলেন, এটি একধরনের সরকারি ভর্তুকি, তাই এর ওপর কর আরোপ যুক্তিযুক্ত নয়।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, বিভিন্ন পরীক্ষার কারণে পণ্য ছাড়ে বিলম্ব হওয়ায় গত বছর তাকে বিপুল ডেমারেজ গুনতে হয়েছে। জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এসব পরীক্ষার সিদ্ধান্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের, এনবিআরের নয়।

আলোচনার শুরুতে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কর আদায়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় নিয়মিত করদাতাদের ওপর চাপ বাড়ছে। করের আওতা বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশে ১ কোটি ২৮ লাখ টিআইএনধারীর মধ্যে অনেকেই রিটার্ন জমা দেন না—তাদের নোটিস দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ভ্যাট খাত নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে মাত্র ৮ লাখ প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধিত। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট ন্যূনতম ভ্যাট নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তাদের মাসিক রিটার্ন জমা দিতে না হয়। এছাড়া পণ্যের ভ্যাট ট্র্যাকিংয়ে প্যাকেজিংয়ে কিউআর বা এআর কোড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা প্রথমে তামাকজাত পণ্যে শুরু হবে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Pinterest
Email
Print