এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১০:০৩ অপরাহ্ণ

ভ্যাট-নির্ভর রাজস্ব আয়ের পরিকল্পনা, লক্ষ্য ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারের রাজস্ব আয়ের বড় অংশই আসবে পরোক্ষ কর, বিশেষ করে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) থেকে। নতুন অর্থবছরে শুধু ভ্যাট খাত থেকেই প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা মোট রাজস্ব লক্ষ্যের একটি বড় অংশ।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির শর্ত পূরণ এবং রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর লক্ষ্যে ভ্যাট আহরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের ধারণা, বিস্তৃত করভিত্তির কারণে এই খাত থেকেই তুলনামূলক দ্রুত রাজস্ব বৃদ্ধি সম্ভব।

প্রস্তাবিত বাজেটের আকার প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি। নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়নের পরিকল্পনা চলছে।

রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যেও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হতে পারে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যের তুলনায় ৪১ হাজার কোটি টাকা বেশি। এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে আর্থিক, মুদ্রা ও বিনিময় হার সংক্রান্ত সমন্বয় কাউন্সিলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১০ দশমিক ১৭ শতাংশ রাজস্ব হিসেবে সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে কর খাত থেকেই ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তবে বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্নতা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে কর আদায় হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা, যেখানে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। ফলে সময়ের বড় অংশ পেরিয়ে গেলেও লক্ষ্যের অর্ধেকও অর্জিত হয়নি।

রাজস্ব কাঠামো বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগামী অর্থবছরেও ভ্যাট খাতই প্রধান ভরসা হিসেবে থাকছে। ভ্যাট থেকে ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা, আয়কর থেকে ২ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা এবং শুল্ক থেকে ৬৭ হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে, কর-বহির্ভূত রাজস্ব খাতেও কিছুটা প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় দুর্বলতা স্পষ্ট। চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ খাতে আদায় হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা, যেখানে লক্ষ্য ছিল ২০ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে এই খাত থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ধরা হতে পারে।

এছাড়া নন-ট্যাক্স রেভিনিউ খাত থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ খাতে আদায় হয়েছে ৩৭ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা।

সামগ্রিকভাবে, চলতি অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের সংশোধিত লক্ষ্য ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা হলেও ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আদায় হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৯৩ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা। এই প্রেক্ষাপটে আগামী অর্থবছরের উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত হবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন অনেক বিশ্লেষক।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা, সীমিত করজাল, কর ফাঁকি এবং প্রশাসনিক অদক্ষতা রাজস্ব আদায়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে রয়েছে। তবুও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য পূরণে রাজস্ব বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

তাদের মতে, করজাল সম্প্রসারণ এবং স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ থাকলেও দ্রুত রাজস্ব বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে ভ্যাটকেই প্রধান ভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাই আগামী অর্থবছরেও এই খাত থেকেই বড় অঙ্কের রাজস্ব আহরণের পরিকল্পনা অব্যাহত থাকবে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Pinterest
Email
Print

সম্পর্কিত

দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায়: প্রধানমন্ত্রী

দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায়: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। তাই জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন...

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী

আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসান নিয়ে আশাবাদ বাড়ার মধ্যেই বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমে...