মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজতে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নরসিংদী-৫ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে প্রথমেই প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নতুন নতুন বাজার সম্প্রসারণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে—সার্বিয়া, গ্রীস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল ও রাশিয়ার মতো দেশে—দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে উচ্চপর্যায়ের সফরের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। থাইল্যান্ডের সঙ্গে শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে।
তিনি আরও জানান, বিদেশে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ সহজ করতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে স্থানীয় লবিস্ট ও বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে করা হচ্ছে।
ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নায়াব ইউসূফ আহমেদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু করতে ইতোমধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও উপদেষ্টা ৮ থেকে ১১ এপ্রিল দেশটি সফর করেছেন। এতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৯ জন শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষককে ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য আগামী ১ জুলাই শুরু হতে যাওয়া পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে বরগুনা-2 আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ‘সুনীল অর্থনীতি’ উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সামুদ্রিক সম্পদ, মৎস্য, পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে সমন্বয় রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।



