ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেও শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পাননি শোবিজ অঙ্গনের কোনো পরিচিত মুখ। সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করেন।
এর আগে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা, বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভীন, দিলরুবা খান, দিঠি আনোয়ার; নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী বেবী; অভিনেত্রী রিনা খান এবং ছোট পর্দার তারকা রুকাইয়া জাহান চমক ও মেঘনা আলম। তবে তাদের কেউই চূড়ান্ত মনোনয়ন পাননি।
বিশেষ করে ‘বাংলা গানের ব্ল্যাক ডায়মন্ড’খ্যাত বেবী নাজনীন মনোনয়ন না পাওয়ায় শোবিজ অঙ্গনে হতাশা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ফিরতে পারেননি—এমন প্রেক্ষাপটে তার মনোনয়ন না পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় আলোচনায় ছিলেন কনকচাঁপা, দিঠি আনোয়ার এবং রুকাইয়া জাহান চমকও।
দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কনকচাঁপা ও চমক। কনকচাঁপা বলেন, তিনি সাধারণ মানুষ হিসেবেই দেশের জন্য কাজ করতে চান এবং ভবিষ্যতেও সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। অন্যদিকে চমক জানান, কুষ্টিয়ার মানুষের জন্য কাজ করা এবং বাঙালি সংস্কৃতিকে বিশ্বে তুলে ধরা তার প্রধান লক্ষ্য।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থী বাছাইয়ে রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও ত্যাগী নারী নেত্রীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ১০ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করে বিএনপি। তিন দিনের এই কার্যক্রমে প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন প্রার্থী ফরম সংগ্রহ করেন।



