এপ্রিল ২২, ২০২৬ ৪:১০ অপরাহ্ণ

জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরও কমবে, বাড়বে মূল্যস্ফীতিও—আইএমএফের পূর্বাভাস

ইরান যুদ্ধসহ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমবে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির মতে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের অর্থনীতি কিছুটা ধীরগতির মুখে পড়বে।

ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠক উপলক্ষে মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা আরও কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে গত অক্টোবর মাসে প্রকাশিত পূর্বাভাসে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৯ শতাংশ ধরা হয়েছিল। আইএমএফ বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পড়ছে।

অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির আগের পূর্বাভাসেও পরিবর্তন এসেছে। অক্টোবর মাসে আইএমএফ জানিয়েছিল, চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এটি ছিল ১০ শতাংশ। এছাড়া বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

এর আগে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)ও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস দেয়। এডিবির ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এপ্রিল সংস্করণ)’ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। এর আগে সেপ্টেম্বর সংস্করণে প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ ধরা হয়েছিল।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত নেমে আসতে পারে।

আইএমএফ আরও জানিয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে ৩ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় ০ দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কম। ২০২৭ সালে এটি কিছুটা বেড়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। বৈশ্বিক গড় মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে।

দেশভিত্তিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ২ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। চীনের প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে। ইউরো অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে ১ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ১ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে।

ভারত এশিয়ার মধ্যে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ধরে রাখবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। দেশটির প্রবৃদ্ধি ২০২৬ ও ২০২৭ সালে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ থাকতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে ০ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ১ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Pinterest
Email
Print

সম্পর্কিত

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু,

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শুরু হয়েছে। রাজধানীর মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে দেখা...

চট্টগ্রামে জ্বালানি সরবরাহ বাড়লেও পাম্পে ভোগান্তি কমেনি, দীর্ঘ লাইনে চালকেরা

চট্টগ্রামে জ্বালানি সরবরাহ বাড়লেও পাম্পে ভোগান্তি কমেনি, দীর্ঘ লাইনে চালকেরা

সরকারি নির্দেশনায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানোর কথা বলা হলেও চট্টগ্রাম নগরীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। বরং বেশিরভাগ পাম্পেই আগের...