জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে ভাড়া কত বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সোমবার এ বিষয়ে প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়।
রোববার রাত ৮টার দিকে বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে বৈঠক শুরু হয়ে রাত ১০টার দিকে শেষ হয়। এতে বিআরটিএর কর্মকর্তা ছাড়াও পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ১ টাকা বাড়লে ভাড়া ১ পয়সা বাড়ানোর প্রচলিত নিয়ম রয়েছে। সেই হিসাবে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়ায় ভাড়া ১৫ পয়সা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে পরিবহনমালিকরা জানিয়েছেন, ২০২২ সালের পর বাস–মিনিবাসের ব্যয় বিশ্লেষণ করা হয়নি। এ সময়ের মধ্যে ডলারের দাম বাড়ায় খুচরা যন্ত্রাংশ ও ইঞ্জিন অয়েলের খরচও বেড়েছে—যা বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিআরটিএ সাধারণত ভাড়ার একটি প্রস্তাব তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায় এবং সেখান থেকেই চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক ঢাকার বাইরে রয়েছেন।
বিআরটিএর এক কর্মকর্তা জানান, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহনমালিকদের দাবির সমন্বয়ে একটি প্রস্তাব তৈরি করে সোমবার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রী ও সচিব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম এ বাতেন বলেন, জ্বালানির পাশাপাশি অন্যান্য ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। দ্রুত সিদ্ধান্ত না হলে মালিক–শ্রমিকেরা নিজ নিজ উদ্যোগে ভাড়া বাড়াতে পারেন, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
বর্তমানে দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ১২ পয়সা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২ টাকা ৪২ পয়সা নির্ধারিত। তবে এসি বাস এবং ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যানের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে না।



