সরকারি নির্দেশনায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানোর কথা বলা হলেও চট্টগ্রাম নগরীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। বরং বেশিরভাগ পাম্পেই আগের মতোই দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা যাচ্ছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) নগরীর বিভিন্ন পাম্প ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরবরাহ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে শিগগিরই চাপ কমে আসবে।
নগরের গণি বেকারি মোড় এলাকায় অবস্থিত কিউ সি ট্রেডিং ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। চালকদের অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেই জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
চালকদের অভিযোগ, সরবরাহ বাড়ানোর খবর শোনা গেলেও বাস্তবে তার কোনো প্রভাব এখনো চোখে পড়ছে না। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক চালক সেলিম বলেন, বিশ্ববাজারের নানা পরিবর্তনের কথা শোনা গেলেও স্থানীয়ভাবে তার সুফল মিলছে না; বরং দাম বেড়েছে, ভোগান্তিও কমেনি।
নগরের মুরাদপুর এলাকার ফসিল পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার মো. ফখরুদ্দীন ইসলাম শিমুল জানান, আগে সপ্তাহে চার দিন তেল সরবরাহ পেলেও বর্তমানে সেই সূচিতে কিছু পরিবর্তন এসেছে। নির্ধারিত দিন না থাকলেও আজ এক গাড়ি ডিজেল পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, নতুন সরবরাহ তালিকা কার্যকর হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
তিনি আরও জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় অকটেন বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করতে হচ্ছে। প্রতিটি গ্রাহককে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে, যদিও অকটেনের চাপ কিছুটা কমেছে। তবে সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
এর আগে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর রোববার (১৯ এপ্রিল) নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। টাইগারপাসসহ বিভিন্ন এলাকায় চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। অনেক পাম্পে তেল থাকলেও অতিরিক্ত চাহিদা সামাল দিতে কর্মীদের বেগ পেতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিপো থেকে পুরনো রেশনিং পদ্ধতিতে বরাদ্দ দেওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। পাম্প মালিকদের দাবি, গত বছরের চাহিদা ধরে বরাদ্দ নির্ধারণ করায় বর্তমান বাড়তি চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও সরবরাহ সেই হারে বাড়েনি।
বর্তমানে নতুন দামে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির পরও জ্বালানির চাহিদা কমার কোনো লক্ষণ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



