জানুয়ারি ২০, ২০২৬ ৩:০৭ অপরাহ্ণ

ভিত্তিহীন অভিযোগে নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড: আদালত

আদালত, হত্যাকাণ্ড, বিচার
আবরার।

ঢাকা (৮ ডিসেম্বর): শিবির সন্দেহে আবরার ফাহাদ রাব্বির বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে তাকে হত্যা করেছে, যা বাংলাদেশের সব মানুষকে ব্যথিত করেছে।

আজ বুধবার দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান আবরার হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

এ দিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে কারাগারে থাকা ২২ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা পৌনে ১২টায় তাদের এজলাশে তোলা হয়। দুপুর ১২টায় রায় ঘোষণা শুরু হয়।

শুরুতেই সংক্ষিপ্ত রায়ে বিচারক ঘটনা ও বিচারের ধারাবাহিকতা উল্লেখ করেন। এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ শাস্তির প্রেক্ষাপট ও অভিন্ন অভিপ্রায়ের ব্যাখ্যা দিয়ে সব আসামিকে শাস্তির সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এ সময় আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, নিঃসন্দেহে সব আসামি পরস্পরের যোগসাজশে একে অপরের সহায়তায় শিবির সন্দেহে আবরার ফাহাদ রাব্বীর বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে নির্মম এবং নিষ্ঠুরভাবে তাকে হত্যা করেছে। যা বাংলাদেশের সব মানুষকে ব্যথিত করেছে।

আদালত বলেন, বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে আর কখনও না ঘটে তা রোধকল্পে অত্র ট্রাইব্যুনালে সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো।

এরপর আদালত ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—মেহেদী হাসান রাসেল (২৪), মো. অনিক সরকার ওরফে অপু (২২), মেহেদী হাসান রবিন অরফো শান্ত (২৩), ইফতি মোশাররফ সকাল (২০), মো. মনিরুজ্জামান মনির (২১), মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (২৩), মো. মাজেদুর রহমান ওরফে মাজেদ (২০), মো. মুজাহিদুর রহমান ওরফে মুজাহিদ (২১), খন্দকার তাবাকারুল ইসলাম ওরফে তানভির (২১), হোসেন মোহাম্মদ তোহা (২১), মো. শামীম বিল্লাহ (২১), মো. সাদাত অরফে এ এস এম নাজমুস সাদাত (২১), মুনতাসির আল জেমী (২০), মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান (২২), এস এম মাহমুদ সেতু (২৪), সামসুল আরেফিন রাফাত (২১), মো. মোর্শেদ ওরফে মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (২০), এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম (২০) (পলাতক), মোহাম্মদ মোর্শেদ উজ্জামান মন্ডল প্রকাশ জিসান (২২) (পলাতক), মুজতবা রাফিদ (২১) (পলাতক)।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—অমিত সাহা (২১), ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (২১), মো. আকাশ হোসেন (২১), মুহতাসিম ফুয়াদ (২৩), ও মো. মোয়াজ ওরফে মোয়াজ আবু হোরায়রা (২১)।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরের দিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Pinterest
Email
Print

সম্পর্কিত

নেপাল–বাংলাদেশ যৌথ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাঙলা কলেজে অনুষ্ঠিত

নেপাল–বাংলাদেশ যৌথ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাঙলা কলেজে অনুষ্ঠিত

ঢাকা (০১ জানুয়ারি):নেপাল ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে রাজধানীর বাঙলা কলেজ ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেপালের পরিবেশকর্মী কিরান কিশোর সাপকথার...

চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে চুক্তির সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ

চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে চুক্তির সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ

মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংক্রান্ত চুক্তির সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।...

আবুল বশর চৌধুরীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আবুল বশর চৌধুরীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ঢাকা(১৯ এপ্রিল): বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, সাংবাদিক ও সংবাদ পরিক্রমার উপদেষ্টা সম্পাদক আবুল বশর চৌধুরীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ২০২২ সালের...

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব তোরাবগনজ এর সদস্য ভুলুর পিতাকে পিটিয়ে হত্যা করায় ক্লাবের পক্ষ থেকে শোকবার্তা-

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব তোরাবগনজ এর সদস্য ভুলুর পিতাকে পিটিয়ে হত্যা করায় ক্লাবের পক্ষ থেকে শোকবার্তা-

ঢাকা (১৫ এপ্রিল): মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব তোরাবগনজ এর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বজলুর রহমন ভুলুর পরিবারের উপর বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলায় ভুলু...