আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ঘিরে। ইরানকে লক্ষ্য করে তার কঠোর হুঁশিয়ারির পর বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে—যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই চরম সামরিক পদক্ষেপের দিকে এগোচ্ছে?
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social–এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “আজ রাতে একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না।” এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এর আগে রোববার তিনি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেন। যুক্তরাষ্ট্র সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত ৮টা (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা) পর্যন্ত আলটিমেটাম দেন তিনি।
সোমবার ট্রাম্প আরও কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে ইরানকে “এক রাতেই নিশ্চিহ্ন” করা হতে পারে।
যদিও তিনি সরাসরি “পারমাণবিক হামলা” শব্দটি ব্যবহার করেননি, তার বক্তব্যের তীব্রতা এবং “সম্পূর্ণ ধ্বংস”–এর ইঙ্গিত আন্তর্জাতিক মহলে নানা আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন ভাষা সাধারণত চরম সামরিক শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়, যা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাকেও পুরোপুরি নাকচ করে না।
তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকার বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, যা পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনাকে নিশ্চিত করে।
ট্রাম্প তার পোস্টে আরও বলেন, “আমি চাই না এমনটা ঘটুক, কিন্তু হয়তো ঘটবে।” একই সঙ্গে তিনি ইরানে সম্ভাব্য শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন, যা বিশ্লেষকদের মতে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি আগে থেকেই স্পর্শকাতর। ইরানকে ঘিরে যেকোনো বড় সামরিক পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই পারমাণবিক হামলার দিকে এগোচ্ছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ট্রাম্পের বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন—এই হুমকি বাস্তবে রূপ নেয়, নাকি শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমাধানই সামনে আসে।



