আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখার বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ অনুমোদন দিয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল ২০২৬ কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে তা অনুমোদন পায়। এর আগে আলোচনায় আসা—নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালালে শাস্তির বিধান যুক্ত করার প্রস্তাবটি চূড়ান্ত সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশটি মূলত অপরিবর্তিত অবস্থাতেই সংসদে পাস হয়েছে।
দিনের সম্পূরক কার্যসূচির অংশ হিসেবে বিলটি উত্থাপনের পর দফাওয়ারী কোনো সংশোধনী না থাকায় এ বিষয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। তবে বিল পাসের আগে ফ্লোর চান বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিল সংক্রান্ত তুলনামূলক বিবরণী মাত্র কয়েক মিনিট আগে হাতে পাওয়ায় তা পর্যালোচনার জন্য কিছু সময় প্রয়োজন।
জবাবে স্পিকার জানান, নির্ধারিত সময়ে আপত্তি তোলা হলে তা বিবেচনা করা যেত, তবে বর্তমান পর্যায়ে এসে আর আপত্তির সুযোগ নেই।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি সন্ত্রাসী সংগঠন নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত একটি সংশোধনী বিল এবং পূর্বের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধন হিসেবেই এটি আনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দেশে জনমত তৈরি হওয়ায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয় এবং নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধন স্থগিত রেখেছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইনগুলোতেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।
এর আগে, ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ওই অধ্যাদেশটি আইন হিসেবে পাসের সুপারিশ করেছিল সংসদের বিশেষ কমিটি। বিশ্লেষকদের মতে, এই আইন কার্যকর হলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পাশাপাশি দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথ আরও সুগম হবে।



