ইরানের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি ইরানের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ (মেরিটাইম ব্লকেড) আরোপের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন।
রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে দেশটির তেল রপ্তানি কমিয়ে আনা এবং চায়না ও ইন্ডিয়ার মতো বড় ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ ব্যাহত করাই এর মূল লক্ষ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, সামুদ্রিক অবরোধ বলতে সমুদ্রপথে একটি দেশের পণ্য পরিবহন বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করাকে বোঝায়। যুক্তরাষ্ট্র যদি এমন পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইরান-এর তেল রপ্তানি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
খবরে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে Venezuela-র বিরুদ্ধে একই ধরনের কৌশল প্রয়োগের উদাহরণ দিয়েছেন, যেখানে সমুদ্রপথে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে দেশটির অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
এর আগে ইসলামাবাদ-এ যুক্তরাষ্ট্র ও Iran-এর মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা হয়নি। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং Strait of Hormuz ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance জানিয়েছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগে রাজি না হওয়ায় আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করা হলে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলবে। কারণ Strait of Hormuz দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। এই পথে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।



