কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে আবারও স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বালুখালী এলাকার নাফ নদীর শূন্যরেখার ভেতরে জেগে ওঠা ‘নারিকেল বাগান’ চরে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মো. সাদেক (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা যুবকের বাঁ পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
আহত সাদেক উখিয়ার বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১০) এফ-১৩ ব্লকের বাসিন্দা বশির আহমদের ছেলে। বিস্ফোরণের পর স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বিকেল চারটা পর্যন্ত তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শান্তনু ঘোষ জানান, মাইন বিস্ফোরণে সাদেকের বাঁ পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত রয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বিজিবির উখিয়া-৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, আহত যুবক নাফ নদীর মিয়ানমার অংশে মাছ ধরতে গিয়ে ফেরার পথে মাইন বিস্ফোরণে আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাফ নদীর পূর্ব দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য অবস্থিত। সাদেক জাইল্যাখালী খালের শেষ প্রান্তে মাছ ধরতে গিয়ে ফেরার পথে ‘নারিকেল বাগান’ এলাকায় পৌঁছালে এ বিস্ফোরণ ঘটে। রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর আক্রমণ প্রতিরোধে রাখাইনভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ) শূন্যরেখার বিভিন্ন চর ও সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে বলে জানা গেছে।
বালুখালী আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা জাফর আলম বলেন, খাদ্যসহায়তা কমে যাওয়ায় অনেক রোহিঙ্গা পরিবার অর্থসংকটে পড়েছে। ফলে জীবিকার তাগিদে অনেকে নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে ঝুঁকি নিচ্ছেন, এতে মাইন বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা বাড়ছে।
এর আগে চলতি বছরের ২৯ মার্চ উখিয়া সীমান্তে নাফ নদীর শূন্যরেখায় মাইন বিস্ফোরণে আবদুল হাকিম (১৫) নামে এক রোহিঙ্গা কিশোরের ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়। তিনি বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১৯) ‘এ’ ব্লকের বাসিন্দা মো. ইব্রাহিমের ছেলে। এছাড়া এর কয়েক দিন আগে পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তে একই ধরনের বিস্ফোরণে শহীদুল ইসলাম (২৫) নামে আরেক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হন। তাঁর একটি পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়।



