রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের করা সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মঙ্গলবার (আজ) দুপুর ১টার পর ডিবি কার্যালয় থেকে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হয়। একই মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে ডিবি।
ডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মামলার পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নেওয়া জরুরি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, ডিবি পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন এ আবেদন করেন। এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে লালবাগের আজিমপুর সরকারি কলোনি এলাকায় শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিলেন ছাত্র-জনতা। অভিযোগ রয়েছে, আন্দোলন দমনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের অজ্ঞাতনামা কর্মীরা দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করে। এতে আন্দোলনকারী মো. আশরাফুল (ফাহিম) গুরুতর আহত হন এবং তার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের পরিকল্পনায় এ হামলা চালানো হয়। এতে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
ডিবির আবেদনে আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় শিরীন শারমিন চৌধুরী নিজের পরিচয় নিশ্চিত করলেও মামলার ঘটনার বিষয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে যান। তাকে হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে সহায়ক হবে বলে মনে করছে পুলিশ।
এছাড়া, তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হলে তিনি পলাতক হতে পারেন এবং তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ডিবি।
আজ ভোরে ধানমন্ডিতে এক আত্মীয়ের বাসা থেকে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করা হয়েছে।
সকালে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যা মামলাসহ তার বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় ইতোমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
অন্য তিনটি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।



